স্বর্গ হত্যার অভিশাপ।


ওই তো ওখানেই পুরনো বটগাছটার নিচেই বসতো গ্রামের মেলা। বাবার দেওয়া স্কুলের টিফিনের টাকাগুলো জমাতাম আমি টিনের কৌটায়। এগুলো যে মেলার জন্যই জমাতাম আমি।


আজ সারাদিন মেলায় ঘুরে বেড়াবো স্কুল পালিয়ে।

এখন আমি মেলায়, এখানে সব কিছুই যে স্বর্গের অপূর্ব ভালবাসায় সৃষ্টি। সবকিছু কিনতে ইচ্ছে হচ্ছে আমার। কাঁঠালের পাতায় পেটপুরে খেলাম গ্রামের অমৃতসম মিঠাই। এখন কিনবো আমি ওই নাটাইটা আর কিনবো একটা রঙিন ঘুড়ি ও সুতো।


বাড়ি ফিরছি আমি, কিনেছি আমি নাটাই, সুতো, একটা রঙিন ঘুড়ি। আর কিনেছি ছোট একটা ঢোল, একটা বাঁশি। মাটির খেলনাও কিনেছি আমি।


এখন বড় হয়েছি আমি। কিন্তু, অস্তিত্বের সেই শৈশব তো এখনো সেই শৈশবেই রয়ে গেছে। আমি কি জানতাম না পৃথিবীর প্রাণ ছিল প্রাচীন অতীত? জ্ঞানের অন্ধতে অনুভব করি না আমি সেই প্রাণ এই নরকসম বর্তমানে।

এখনও যাই ওই প্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়ায়, অন্তরের অশ্রুতে খুঁজে বেড়াই সেই হারানো মেলার স্পর্শ। আপনার কি একবারও মনে পড়ে না ওই পুরনো কাঠের নাগরদোলার স্মৃতি এই বর্তমান পৃথিবীতে? প্রযুক্তির যুদ্ধে ক্লান্ত বর্তমান সময়ে আমি কি দেখি পৃথিবীর ভবিষ্যৎ? যদি দেখি, তবে কি দেখি আমি সেই অন্ধকার ভবিষ্যতে?


Leave a Reply