স্বর্গের মহাবর।


আমি কি ফিরে যাবো শৈশবের শীতের সন্ধ্যায়? শীতের সূর্যাস্তে ছিল গ্রামের গহিন বৃক্ষের আড়ালে লুকানো কুয়াশার সাথে প্রকৃতির সখ্যতা। 


তখন সবাই গ্রামের ছনের গৃহের উনুনের উত্তপ্ত আগুনের আলোয় মন্ত্রমুগ্ধ। কনকনে শীতে ওই অমৃতসম আগুনের উত্তাপ ছিল স্বর্গের মহাবর। ওই নিকষ কোন রাতে কেরোসিনের হারিকেনের আলোয় কুয়াশার চাদর ভেদ করে যেতাম গ্রামের কোন মহোৎসবে। ওখান থেকেই তো আসছিল প্রাচীন মাইকের হারানো সুর।

রাতে গাছের কুয়াশাসিক্ত কুয়াশা বেয়ে নেমে আসতো শীতের অশ্রুগুলো।

ওই অশ্রুতে লিখা ছিল এই বর্তমান রুক্ষ পৃথিবীর আদ্যপান্ত। প্রকৃতি যেন বলছিল সবাইকে, “আজ আমি কাঁদছি তোমাদের ভবিষ্যতের অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখে, কাল কাঁদবে তোমরা সবাই যখন দেখবে হারিয়ে গেছে এই কুয়াশাসিক্ত শিশির।”


প্রকৃতি ছিল চির ধ্রব সত্য জননী। আমি কি তাঁর অযোগ্য পুত্র নই, কারণ আমি ভালবাসি এই হৃদয়হীন বর্তমান পৃথিবী? কিন্তু, মাতৃসম এই প্রকৃতিই আমাকে শিখিয়েছিল পূর্ণ-হৃদয়ের নিঃস্বার্থ ভালবাসাই যে প্রকৃত ভালবাসা।


তাহলে, আমি কি এখনো বিলুপ্তপ্রায় শিশিরসিক্ত ওই আদিম স্বর্গে বিশ্বাসী নই? কখন বুঝবো আমি ওই হারানো স্বর্গের নিঃস্বার্থ প্রেম ও মর্মার্থ?


Leave a Reply