সুখ আসলে কি?


শৈশবের শেখা সত্য ছিল, “নদীর এই কূল ভাঙ্গে ঐ কূল গড়ে”, কিন্তু আমাদের সৃষ্ট এই প্রকৃতির ভাঙ্গনে কোন কূল গড়ে বাস্তবে? এখানে যে দু’কূলই ভাঙ্গে আর গড়ে না নতুন সবুজ প্রকৃতি।


ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির গালিচা ঐ সবুজ ঘাসের প্রাণ। নিরাপদ জীবনের কথা ভেবে সৃষ্টি করেছি আমি এই প্রকৃতিমুক্ত রাজপথ। প্রকৃতির ঐ অকৃত্রিম ভালবাসায় মুগ্ধ নই আমি। কারণ ঐ নিখাদ ভালবাসায় অনুপস্থিত আমার লোলুপ স্বার্থপরতার মুখোশ। আর এই মুখোশের অনুপস্থিতিতে বিব্রতবোধ করি আমি। প্রকৃতির মাঝে কেন যেন নিজেকে অযোগ্য ও গেঁয়ো মনে হয়। এটা তো প্রকৃতির সমস্যা নয়, এটা আমার নিজের সৃষ্ট সমস্যা, আর এই সমস্যা থেকেই পরিত্রাণ পেতে আমি তৈরি করেছি আধুনিক সভ্যতার ঐ মলিন মুখোশ। কেন যেন দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাই প্রকৃতির এই ভাঙ্গন। প্রতিদিনই আমি অভিযোগ করি, “এখন আর শীত নেই এই শীতকালেও, কি যে হবে”. আমি আরও অভিযোগ করি, “ধুলোবালিতে আর গাড়ির শব্দে বের হওয়া কঠিন”। আমি শুধু অভিযোগ করতেই অভ্যস্ত এখন। কিন্তু, নিজেও দেখি প্রকৃতির মমতাময়ী স্পর্শের অভাবেই আক্রান্ত এই মৃতপ্রায় পৃথিবী আজ।


আমি তো প্রযুক্তি জ্ঞানে বিশ্বাসী, অন্ধ জ্ঞানে আমি নিশ্চিত, “প্রকৃতির অভাবেই বেঁচে থাকতে পারবো আমরা প্রযুক্তির প্রয়োগে”। কেন যেন ঠুনকো এই পার্থিব প্রযুক্তিগুলো খুবই হাস্যকর এই মমতাময়ী প্রকৃতির কোলে। 


হাস্যকর, কারণ আমাদের যে কোন প্রযুক্তিই তো প্রকৃতির কোন না কোন উপাদানেই তৈরি, কিন্তু, এটা স্বীকার করতে নারাজ আমি। অথচ, আমি ভাবি প্রকৃতির অভাবেই বেঁচে থাকতে পারি আমরা। কখনও কি ভেবেছি, কোথায় দাঁড়াবো আমি যদি প্রকৃতি ত্যাজ্য হই কখনো।

প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুতই আসলে, এখানে নতুন কোনও স্বপ্নের স্বর্গ সৃষ্টি হবে না অন্য কোনও কূলে যে কূলে আশ্রিত হবো আমি। কারণ, ঐ কূলও যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একই সময়ে কোন না কোন ভাবেই। খুব নিকটের সময়েই হয়ত প্রকৃতির ত্যাজ্য সন্তান হব সবাই কিন্তু, তখনও হয়ত উপলব্ধি করবো না সমস্ত প্রযুক্তিজ্ঞানই যে অচল ও মূল্যহীন এই প্রকৃতিমুক্ত অস্তিত্বে।

এখনো দেখছি সবুজের মাতৃ আঁচলগুলো বেঁচে আছে দূরান্তের কোথাও। কিন্তু, সেখানেও যে হচ্ছে প্রযুক্তি দুর্বৃত্তের প্রবেশ। কখনো কি দেখা পাবো সেই সুখের, যে সুখের আশায় গড়ছি আমরা এই অন্ধ পৃথিবী? সুখ আসলে কি এবং কিসে?


Leave a Reply