সময়ের ভোর।


ভোরের ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।


এই শীতের ভোরে গ্রামের পুকুরের জল যেন বরফের চেয়ে ঠাণ্ডা। কিন্তু, আমাদের পাশের বাড়ির বৌ’দিরা তখন এই শীতেই পুকুরে স্নানে মগ্ন। মাটির উনুনের কয়লাগুলো ছিল গুঁড়ো করে রেখেছিলেন আমার বৌ’দি ওই মাটির কৌটায়। এইতো ওইদিকে যে কংক্রিটের বাড়িটা দেখা যাচ্ছে, ঠিক ওখানেই ছিল মাটির ঘরের রান্না ঘরটা।

ওই কয়লার গুড়ো দিয়ে দাঁত মাজতে পুকুর ঘাটে দাঁড়ানো ছিল যেন প্রাচীন নিয়ম। কাঁপন ধরা ওই তীক্ষ্ণ শীতে আমাকে দেখে বৌ’দিরা তো এখনি জল ছিটিয়ে দেবে এই ভোরে। তাই, পুকুরের অন্য ঘাটে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, ফিঙ্গেরা তখন বৈদ্যুতিক তারে সারিবদ্ধতায় মগ্ন।


ওই কোন ভোরে প্রায়ই দেখতাম, কৃষকেরা তখন বাঁশের ঝুড়িটা দিয়ে জল সেচে বিশ্রাম নিচ্ছিল। ওঁদের কেও ওখানে আগুন ঘিরে প্রাচীন সঙ্গীতে একাগ্র।


কিছু শীতের বছরে তখনও দেখেছি ওদের এই বাঁশের ঝুড়িতে জল সেচা। কিন্তু, স্কুলে ওরা বলাবলি করছিল, কি যেন একটা যন্ত্র এনেছে কেও দুরের শহর থেকে। ওটা নাকি জল সেচ করবে। আজ স্কুলে পড়ায় মন নেই যন্ত্রটা দেখবো বলে।

ওখান থেকেই আসছিল শব্দটা। সত্যিই তো, এটা যে জল টেনে তুলছিল। এই যন্ত্রটার কথাই তো সবাই স্কুলে বলাবলি করছিল সকালে।

এরপর থেকে আর দেখিনি কৃষকদের ওই জল সেচা। একই সাথে হারিয়ে গেল ওঁদের প্রাচীন সঙ্গীতের সখ্যতা।