শৈশবের প্রতিচ্ছবি।


পুরনো বাড়িটার ঘুনে ধরা জানালার বাইরে তাকিয়েই তো ছিলাম দিগন্তের পানে। এ যেন মগ্নতায় কেটে যাওয়া মুহূর্তগুলোর একটি।


হালকা হাওয়া বইতে শুরু করল হঠাৎ, কালো মেঘে ছেয়ে যাওয়া আকাশে ছিল কালবৈশাখীর পূর্বাভাস। অপূর্ব শীতল ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। কালবৈশাখীর সাথে বৃষ্টির প্রকোপ বেড়েই চলল যেন। এগুলো আমার চির চেনা দিনগুলোর একটি।

বুনো বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই পাড়ার ছেলেগুলোর সাথে কুড়ানো কচি আমগুলো খাওয়া ছিল আশীর্বাদ। কাঁচা মরিচ আর নুন নিয়ে ওই কাঁচা আমের স্বাদ বিরল আজ।

কিন্তু, বিরামহীন বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ঘুরে বেড়াতে কখনো লজ্জিত বোধ করিনি আমি। লজ্জিত হইনি সারাদিন বিলে ডোবায় কর্দমাক্ত নিজের ওই চেনা মুখে।

এখন সময়টা কেমন আমি জানি, এখানে অতীতের শৈশব যেন প্রতিমুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার কশাঘাতে। কিন্তু, আমি তো এই আধুনিক জীবন চাইনি। আমি চেয়েছিলাম ওই অতীতের শৈশব, যেটা কোনদিনও ভুলব না আমি। যখন হেঁটে বেড়াই এই বর্তমানের রাজপথে, কারো মুখেই দেখি না অতীতের প্রাঞ্জল ওই সুখের ছায়া। অতৃপ্ত এই বর্তমানে কেন যেন সবাই কি যেন খুঁজছে মনে প্রাণে। কিন্তু, সবাই এখন যা খুঁজছি তা যে নেই এই আধুনিক সভ্যতায়।


অতীতের স্বর্গের অনুভূতিগুলো শুধু অনুভূতিতেই উপলব্ধি করা সম্ভব। এখানে বাক্য চির মূল্যহীন।


আমরা সবাই খুঁজছি এক বিন্দু প্রাচীন শান্তির স্পর্শ আসলে। কিন্তু, অতীতের সাথে যে শান্তির উপাদানগুলো মরেই গেল আধুনিক সভ্যতার সূচনায়। এটা ভেবেও দেখিনি তেমন। চারিদিকে দু’চোখ মেলে কোথাও যে দেখছি না অতীতের কিছুই। তাহলে, আমি এই কঠোর কৃত্রিমতায় শান্তি আশা করবো কিভাবে? কারণ, অতীতের সমস্ত কিছুর যোগফলে সৃষ্ট সেই প্রাচীন শান্তি।