শিক্ষিত হবো আমি।


এইতো আজ বসেছি পাঠশালায়। একি সেই পাঠশালা যেখানে শিক্ষিত হবো আমি সার্টিফিকেটের জন্য? কি কি শিখেছিলাম আমি শৈশবের স্কুলে আর কি শিখেছিলাম প্রকৃতির পাঠশালায় যখন আমি ছিলাম স্কুলের বাইরে?


 

কিন্তু, আমি কি পেরেছি প্রকৃত শিক্ষিত হতে? আমি দেখছি, আমি এখনো সেই অহংকারী মহামূর্খ। আমি যখন রাস্তায় হেঁটে বেড়াই, দেখি অসহায় বুবুক্ষ মানুষগুলো, ওরা ভিক্ষা করছে বেঁচে থাকার জন্য। আমিতো সেই অশিক্ষিত যে ভিক্ষা দিতে পছন্দ করি না, সাহায্যও করি না অসহায়দের। কি পাবো আমি এই অসহায় ভিক্ষুকদের সাহায্য করে? বরং আমি ভাবি, এদের সাহায্য করা হল অর্থের অপচয়। আমি নিজেও কি এক ভিন্ন শ্রেণীর ভিক্ষুক নই? আমার নিজেকে ভিক্ষুক পরিচয় দিতে লজ্জা কেন? এটা জানবো আমি পাঠশালায়।


এখন আমি এই পাঠশালায় শিখবো ভালবাসার প্রকৃত অর্থ। আমি তো জানি আমি সবাইকে ভালবাসি, আসলে যেখানে আমার স্বার্থ জড়িত সেখানেই আমার ভালবাসা। আমি তো আপনাকে ভালবাসি আমার কার্যসিদ্ধির জন্য।


 

আর এটা কি ভালবাসা নয়? আমি কি এখনো পারি না মন প্রাণ খুলে ভালবাসতে? আমি কি সেই অশুভ যে বাঁচবে একা এই পৃথিবীতে, একাকীত্বের ভয়ে কি আমি ভালবাসি সবাইকে? এটাও তো স্বার্থপরতা। আমি কিছুই আশা করি না কারো কাছে, কিন্তু তারপরও ভালবাসি সবাইকে। এটাই তো হতে পারে প্রকৃত ভালবাসার প্রকৃত অর্থ। আমি যখন ওই ভিক্ষুকের স্থানে নিজেকে কল্পনা করি, তখন স্পষ্ট দেখি আমার ভালবাসা কখনো নিখাদ ছিল না। আমি ভুলে গেছি এই পৃথিবীতে সব মানুষই সমান, একি শরীর, একি প্রাণ। তাহলে যে আমিও ওই ভিক্ষুক পরিবারের কেও। আশ্চর্য, আমি আমার এই পার্থিব ভিক্ষুক পরিবারকে অস্বীকার করি। এটাও ভুলে গেছি, এরাও যে পৃথিবী গড়ার কারিগরদের কেও!

প্রকৃতির ভালবাসার দর্পণে দেখেছি আমার স্বার্থপর অবয়ব। আজ থেকে শিক্ষিত হবো আমি।


 

Leave a Reply