শান্তির প্রকৃত অর্থ।


মফস্বল শহরের পাশেই ছিল সাজানো গ্রামটা। ভোরের সূর্যের এক ফালি রোদে গ্রামের বধূরা তখন নতুন কলসিতে জল নিয়ে ঘরে ফিরছিল। আজ তো স্কুল বন্ধ। সবাই যাবো দুর গাঁয়ের কোন এক মহোৎসবে। এর চেয়ে খুশির কিছু আর কি হতে পারে?


গরুর গাড়িতে চড়েই যাচ্ছিলাম সবাই ওই দুর গাঁ এ। ইটের ধুলো-ধূসরিত পথে গরুর গাড়ির কাঠের চাকার শব্দ ছিল চির চেনা মর্মস্পর্শী সঙ্গীত। যে দিকেই তাকাই সে দিকেই দেখি চির সবুজ প্রকৃতি। গ্রীষ্মের সূর্যের প্রখর তাপেও ছিল প্রকৃতির মাতৃ স্নেহের শীতল আমেজ।

আমরা এখন সেই দুর গাঁ এ। মহোৎসবে একতারার হৃদয়স্পর্শী সুরে মন্ত্রমুগ্ধ সবাই। কলাপাতায় পেটপুরে খাওয়া দেব-প্রসাদে মহাতৃপ্ত ওই প্রাচীন পৃথিবী।


সেই দুর গাঁ আজ আর নেই। ওটা তো নতুন কোন শহর ওখানে। দু’চোখ ভরে দেখা শৈশবের সবুজ প্রকৃতি আজ তপ্ত বিরূপ কিছু এই নতুন পৃথিবীতে।

গরুর গাড়িগুলো হারিয়ে গেছে একতারার সাথেই।


ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে সবাই এক হৃদয়হীন বিষাক্ত পৃথিবীর দিকে, যেখানে এক বিন্দু শান্তির জন্য সবাই হবে কাতর। কিন্তু, ফিরবে না শান্তি ওই নতুন পৃথিবীতে, কারণ শান্তির সব উপকরণ যে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে। 

কিন্তু, প্রকৃতি এখনো যে ক্ষমাশীল। সবাই চাইলে এখনো পারি চির সবুজে ফিরে যেতে আর ওখানেই অনুভবে জানবো শান্তির প্রকৃত অর্থ।


Leave a Reply