মুক্ত দিনের অপেক্ষায়…


আজকাল সব কিছু সীমিত হয়ে গেছে এই নতুন পৃথিবীতে। কৃত্রিমতায় আবৃত এই সময়ে এখনও চেতনা হচ্ছে না আমার কেন যেন।


 

আশ্চর্য চোখে দেখি নিজেকে এখন এই বর্তমানের দর্পণে। আরও বিস্মিত হয় এটা দেখে যে, আমি প্রাচীন আত্মাদের কেও নই এখন এই পৃথিবীতে। কারণ, আমি এখনও দেখছি না সব কিছু খুব দ্রুতই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই জোরালো প্রযুক্তির স্রোতে।

সর্বত্র প্রযুক্তির আশীর্বাদে অভিশপ্ত এই সময়ে আমি শুধু লড়ে যাচ্ছি বেঁচে থাকার এই যুদ্ধক্ষেত্রে ভবিষ্যতের কোন এক মুক্ত দিনের অপেক্ষায় মাত্র। কিন্তু, আমার প্রাচীন আত্মার সময়ে কোথাও এই যুদ্ধ ছিল না কেন? তখন স্বর্গের পৃথিবীতে জন্মেছিল এই আধুনিক পৃথিবী। কিন্তু, ওই আধুনিক পৃথিবীর উপঢৌকনে ছিল এই প্রযুক্তির ছায়া বর্তমানের মোড়কে।


অতীতের পাঠশালায় বর্তমানের পৃথিবীতে আজ শিখব, “ভবিষ্যতের কোন এক মুক্ত দিনের অপেক্ষায় মাত্র” বলতে কি বুঝি আমি।


 

এভাবেই হয়ত বর্তমান হৃদয়ে শিখেছি আমি ওই প্রাচীন স্বর্গের অভাবে যে, অতীতের সময় ছিল অন্ধকারের যুগ মাত্র, ছিল না তেমন ওষুধ-পথ্য, ছিল না তেমন দাতব্য চিকিৎসার কিছুই। কিন্তু, এটা তো ভেবে দেখিনি, তখন তেমন অসুস্থও ছিল না কেও ওই পৃথিবীতে। কিন্তু, প্রযুক্তির জোয়ারের এই সময়ে বর্তমান অসুখগুলোর তেমন প্রতিকারও তো কোথাও নেই। তাহলে কি প্রযুক্তি এমন কিছু যেখানে রোগাক্রান্ত এই বর্তমানে তেমন কিছু করার নেই প্রযুক্তির, অথচ এই রোগাক্রান্ত এই সময়ের একমাত্র কারণ এই প্রযুক্তিই।

শুধু এটা জানি, অতীতে ছিল উদ্ভিদের প্রকৃতি আর আমাদের ছিল অতি সাধারণ জীবন-যাপন। আর এটাই প্রাকৃতিক। যেহেতু, ওটা ছিল প্রাকৃতিক, ওখানেই ছিল সুস্থতার পৃথিবী। পাঠশালায় শিখেছি, এটাই যে উত্তর।