ভবিষ্যতের ভবিষ্যৎ।


কোন এক ধু ধু প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আমি।

এটা তো গ্রামের সবুজ ফসলের ক্ষেত যেখানে আমি ঘরে ফেরা কৃষকদের আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলাম।


দু’চোখ ভরে দেখতাম ওদের কাটা ধানের বোঝা কাঁধে নিয়ে সর্পিল পথে ঘরে ফেরার পদধুলিতে আচ্ছাদিত ঐ পুরনো পৃথিবীকে।

প্রযুক্তি জ্ঞানের পাপে অন্ধ আমি দেখছি না ভবিষ্যতের অনুর্বর ঐ ধু ধু প্রান্তরে সবাই দাঁড়িয়ে আছে শুধু এক টুকরো মরূদ্যানের আশায়।

আজ আর ফসল হয় না কোথাও প্রকৃতির কোলে। ধরিত্রীর অভিশাপে শুকিয়ে গেছে বহমান স্রোতগুলো। রৌদ্রের খরতাপে চৌচির ঐ আগামীর বন্ধ্যা পৃথিবীতে যুদ্ধ করবো আমি এক বিন্দু সবুজের জন্য মরিয়া হয়ে। কিন্তু, ফিরে তাকাবে না মাতৃতুল্য প্রকৃতি সেদিন আর ক্ষমার দৃষ্টিতে।


আমাকে তো সংশোধনের অনেক সুযোগই দিয়েছিলো প্রকৃতি, কিন্তু, প্রযুক্তির জড় হাতিয়ারে সজ্জিত এই বর্তমান আমি শুনতেও চাইনি প্রকৃতির মর্মস্পর্শী কণ্ঠস্বর।


আজ কেন বুক ফেটে কান্না আসছে আমার মহাশ্মশানপ্রায় এই মরুপ্রান্তরে দাঁড়িয়ে? ধরিত্রীর পায়ে কেঁদে কেঁদে শুধু একটাই যে প্রার্থনা ছিল আমার, “হে মা প্রকৃতি, আবার ফিরে আয় তুই অতীতের ঐ চিরসবুজ মাতৃরূপে”। কিন্তু, প্রকৃতি সেদিন হবে বধির, কঠোর ও নির্দয়।

এটাই যে হবে প্রকৃতি ধ্বংসের অভিশাপে অভিশপ্ত নিকটের সময়ের চির মৃত ভবিষ্যৎ পৃথিবী।

তবে, এখনো তো চাইলেই পারি সেই চির সবুজে ফিরে যেতে। এটা কি করতে পারি না, “একটা বৃক্ষ রোপণ করবো আমি একদিন পর পর?”


Leave a Reply