বহমান ওই নদীর তীরে।


বসে ছিলাম বহমান ওই স্রোতের তীরে কোথাও। প্রকৃতি ওখানে সেজেছিল কাশফুলের অলংকারে। ভোরের সূর্যকিরণে মাঝিরা গানের সুরে দাঁড় বেয়ে যাচ্ছিলো দুরের লোকালয়ে। কাশবনের পাশেই ছিল বেদে নৌকার বহর।

আমি তখন ছোটদের স্কুলে পড়ি।


কখনো দেখতাম নতুন বৌ যাচ্ছে হয়ত বজরায়। তীর ঘেঁষেই যেতো রঙিন বজরাগুলো। ওখান থেকেই তো ভেসে আসতো ঢাক ও সানাইয়ে ভবিষ্যতের রুক্ষ পৃথিবীর নিষ্প্রাণ সুর। ওই সুরেই করুণ ভাবে প্রকৃতি হয়ত বলতো, “হারিয়ে যাচ্ছি আমরা, তোমাদের কি কখনো মনে পড়বে আমাদের কথা?” 

গ্রামের কেরোসিনের হারিকেনের আলোয় কেটেছে শৈশবের কিছু সময়। পাশের বাড়িতে তখন সবে এসেছে বৈদ্যুতিক আলো। মহা বিস্মিত আমি ওই আলোর ছটায়। কিন্তু, কোথাও কিছু একটা যেন ছিল না ওই আলোতে। আসলে ওই আলোতে ছিল না প্রাণ ও নিস্পাপতা। প্রাচীন পৃথিবী তখনও বুঝতে পারেনি এই বৈদ্যুতিক পৃথিবীর আগমন হবে কোন এক অভিশপ্ত উপস্থিতি ভবিষ্যতের পৃথিবীতে।


জোনাকির আলো কেন যেন বেমানান এই নতুন সভ্যতায়। কিসে খুশি হবো আমি তা জানি না আমি এই নতুন পৃথিবীতে। কারণ, এই যান্ত্রিক সভ্যতায় প্রকৃতির স্পর্শ ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তেই।


 

ধীরে ধীরে শান্তির গ্রামগুলোতে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছিলো কেরোসিনের আলো। বিদ্যুতের আলোয় পৃথিবী তখন সভ্য হচ্ছে মাত্র। অশ্রুসজল নেত্রে একদিন বেদে নৌকাগুলো  বৈদ্যুতিক আলোয় হারিয়ে গেলো অন্ধকার গহিনে ওই বজরাগুলোর সাথেই।

আমি যে বার বার ভুলে যাই, “প্রকৃতির অনুপস্থিতিতে আমি মৃত।” এই সত্যের উপলব্ধিই প্রকৃতি রক্ষার একমাত্র উপায়।


Leave a Reply