প্রাচীনের ভাষাগুলো।


হঠাৎ খুঁজে পেলাম মলিন কাগজের পত্রগুলো, এগুলো অতীতের শীতের রাতগুলোতে দোয়াতের কালিতে লিখা প্রাচীনের ভাষাগুলো যেন।


এখন তো শীত নেই বললেই যথেষ্ট নয়। কারণ, এই শীতের ঋতুতে গ্রীষ্মের উপস্থিতি তেমন আশ্চর্যজনক কিছু নয়।

প্রযুক্তির পৃথিবীতে বিশ্বাসী আমার এই আধুনিক অস্তিত্বে ঋতু যেন মূল্যহীন কিছু। প্রযুক্তির পৃথিবীতে আমি খুঁজি না সৌন্দর্যের পরশ। স্বার্থপর এই সময়ে একমাত্র নিজের প্রয়োজন ছাড়া প্রকৃতির প্রয়োজন নিষ্প্রয়োজন মনে করতেই অভ্যস্ত আমি। উন্নত শহুরে জীবনে আছে বৈচিত্র্য, এখানে নিঃশব্দ বলে কিছু নেই। যেখানে নিঃশব্দ নেই, সেখানে হয়ত আছে নিরাপত্তা, কারণ চারিদিকে অগুনতি মানুষের ছড়াছড়ি, এটাই ভাবি আমি।


প্রাচীন গ্রামগুলো তো সাঁঝের কিছু পরেই যেন ঘুমিয়ে পড়ত চির প্রশান্তির অতীতে। প্রাচীন গ্রাম ছিল যেন প্রকৃতির অভয়ারণ্য, জোনাকিদের সাহচর্যে নিকষ রাতে ঘুরে বেড়ানোয় অভ্যস্ত প্রাচীন জীবনে অসুস্থতার এই বর্তমান পৃথিবী ছিল মৃত।


কিন্তু, আমার অতৃপ্ত বাসনাগুলো যেন আরও বেশী কিছু খুঁজেছিল। এখন আমি যে সময়ে উপস্থিত আজ, এই সময়টাই যেন খুঁজেছিল আমার ওই অতীত। গ্রামের জোনাকিদের বিনিময়ে আজ পেয়েছি উজ্জ্বল আলোর ছটায় অন্ধ এক সময়। আর এই বর্তমান সময়টাকেই আমি বলি নিরাপদ জীবন।

আধুনিক এই নিরাপদ পৃথিবী গড়ার প্রয়োজনেই ঋতুগুলো নিষ্প্রয়োজন ছিল এই পৃথিবীতে। উদ্ভিদের প্রকৃতি প্রায় মরেই গেল যন্ত্রদানবের আগ্রাসনে। কিন্তু, এখনো আমি শীতের অভাব অনুভব করছি কেন? এভাবেই আমি উপলব্ধি করবো ঠিক তখনি, যখন সব ঋতুই হবে গ্রীষ্ম। তখন আমার আর কিই বা করার থাকবে? কারণ, এটাই তো প্রযুক্তির আশীর্বাদ।