নির্বাসিত সময়গুলো।


পুরনো টেলিফোনগুলো আজ আর নেই, কারণ কিছুতেই সন্তুষ্ট নই আমি। এখনো দেখছি না আমি আধুনিক পৃথিবীর প্রতিটি কিছুই যে অস্বাস্থ্যকর। আমি কি খেয়াল করেছি কখনো, পুরনো পৃথিবীতে রাত বারোটার মধ্যে পৃথিবী ছিল গভীর ঘুমে বিভোর।


আধুনিক সভ্যতার এই নির্ঘুম পৃথিবীতে ঘুম এখন বিরল কিছু। এখনকার পৃথিবী রাত জাগা দুঃস্বপ্নের কোন এক নরকমাত্র। এই সভ্যতায় প্রায় সবাই ঘুমায় ভোররাতে। মোবাইল ফোনের সখ্যতায় মগ্ন এই সময়।

অস্বাস্থ্যের বিষে বিষাক্ত এই অপ্রাকৃতিক পৃথিবী। কারণ, প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের অভিশাপ এটা। ক্ষুদ্র ঐ প্রশ্নটা ছিল, আরণ্যক স্বর্গে থেকেও কেন সন্তুষ্ট ছিলাম না আমি শৈশবের অতীতে? আরও গভীর সন্তুষ্টির আশায় সৃষ্ট এই বর্তমান পৃথিবীতে নেই কোথাও এক অণু পরিমাণ বিশুদ্ধ বায়ু।


তাহলে, আজ পাঠশালায় শিখেছি, মোবাইল ফোনের অদৃশ্য তরঙ্গগুলো কোন ভাবেই তো স্বাস্থ্যকর নয়। ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, স্যাটেলাইট টেলিভিশনের তরঙ্গগুলো জীবনের প্রতিবন্ধকতা।


মগ্নতার আচ্ছাদনে ভাবিনি কখনো, এই বিষাক্ত তরঙ্গগুলোই সৃষ্টি করেছে এই নির্ঘুম পৃথিবী। এই তরঙ্গগুলোই ক্রমাগত সৃষ্টি করছে প্রাণহীন এক মন, যেখানে হৃদয় আজ অনুপস্থিত। নির্মম এই ভুল পৃথিবীতে কেও সুখী নয় কোথাও আজ।

খুঁজে ফিরি অতীতের কোন ভূমি বিলুপ্ত স্বর্গে কোথাও যেখানে নেই বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির স্পর্শ। যখন আমি আবিষ্কৃত হই ঐ অতীতের ভূমিতে এই আধুনিক পৃথিবীতে, অবাক চোখে দেখি, শৈশবের ঘুমের সময়ে ফিরে গিয়েছি আমি। ভাবছিলাম, কেমন হতো, আধুনিক সভ্যতাহীন স্বর্গীয় ঐ কয়েকটা দিন যদি হতো প্রতিদিনের দিনগুলো এই অভিশপ্ত বর্তমান পৃথিবীতে?

এখানেই তো উপলব্ধিতে অনুভব করেছি, অতীত ছিল আশীর্বাদ।


Leave a Reply