পৃথিবীতে পদার্পণ।


শৈশবের অতীতে বড় হচ্ছিলাম ওই দ্বীপে। কিন্তু, ওই আদিম পৃথিবী তো অপরিচিত এই বর্তমানে।


 

মনে পড়ে এখনো, স্কুল পালিয়ে খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়াচ্ছি আমি। গ্রীষ্মের শীতল উত্তাপে বাতাসে ছিল প্রাচীন বৃক্ষরাজির ঘ্রাণ। বাবার দেওয়া টিফিনের টাকাগুলো ঘুড়ি কেনার জন্যই খরচ করতাম। খালের গভীর পানিতে ছিল এক আশ্চর্য নীলাভ আভা। ধীরে ধীরে বিকেল গড়িয়ে গেল, এখন আমি খালের মুখে রাখা ওই ভাঙা জেলে নৌকাটায় গিয়ে বসবো। খালের উপর ঠিক ওখানেই ছিল বাঁশের সাঁকোটা।

এই সাঁকোটাই বহুবছর ধরে খুঁজেছি আমি এই সভ্য পৃথিবীতে। ওই সাঁকোর অনুপস্থিতিতে যে স্বর্গের একটা মহামূল্যবান উপাদান নেই এই রুক্ষ পৃথিবীতে।


শতবর্ষ পুরনো দোলক ঘড়িটাও দেখছি না ওখানে। মহা অমূল্য ওই অতীতের কিছুই তেমন নেই এই নতুন পৃথিবীতে।


 

ভর পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে প্রতিফলিত হত প্রকৃতি মায়ের নীরব অশ্রু লুকানো ওই হাসিমুখ। তখন বুঝিনি, এই অশ্রু যে আমাদের প্রতিই সঁপে দেওয়া হবে একদিন।

স্বর্গ চাইনি কোন মহাভুলে, ওই একই ভুলে চেয়েছি প্রযুক্তি, চেয়েছি আধুনিক জীবন। স্বর্গের বিনিময়ে প্রযুক্তি এনেছে পৃথিবী এই স্বর্গীয় পৃথিবীতে। কিন্তু, বেঁচে থাকার সব উপাদানগুলো ছিল একমাত্র ওই স্বর্গেই। এগুলোর প্রায় সবগুলোই তো শেষ হয়ে এলো এখন এই আধুনিক জীবনে।

এটাই হচ্ছে ওই অশ্রুর ভাষা।