পুরনো ঘড়িটা।


মনে প্রাণে বিশ্বাস করতাম, দুরের আলেয়াগুলো ছিল ভুতের আলো।


ওই নিস্তব্ধ রাতে অঝরে বৃষ্টি হচ্ছিল অতীতের গ্রামে। পুরো ভিজেই গিয়েছিলাম আমি কচুপাতার বড় ছাতাটার নিচে। স্বর্গের গৃহেই ফিরছিলাম তখন।

শতবর্ষ পুরনো মাটির ঘরটাতেই থাকতাম আমি, মরচে ধরা টিনের চালে বৃষ্টির শব্দে ঘুমানো ছিল দুর্লভ আশীর্বাদগুলোর একটি। বাইরে সহস্র ব্যাঙের কলতানে চির মুগ্ধ আমি। তখন তো বিদ্যুতের রোশনাই দেখিনি। কেরোসিনের কুপিবাতির আলোয় রাতের খাবার শেষে সবাই মা কে ঘিরে বসে আছি। একটা ভুতের গল্প যে বলতেই হবে।

জানিনা কখন মায়ের কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছি আমি। যেন প্রতিদিনই ঘুম ভাঙত বৃষ্টিস্নাত অপরূপ এক অপার্থিব স্বর্গের ভোরে। রাতের বর্ষণে সর্পিল মেঠোপথটা কর্দমাক্ত এখন।


আজ স্কুল বন্ধ। আমার চেয়ে খুশি পৃথিবীতে আর কেও নেই এই খবরে। আসলে, ওগুলো ছিল আমার দামাল শৈশবের ডায়েরির অক্ষত পৃষ্ঠাগুলো।


বিভ্রান্তিকর এই শহরে নিকটেই আবিষ্কৃত হই আমি। স্বর্গের ডায়েরিটার সব পৃষ্ঠাগুলো লুকিয়ে রেখেছি গতকালের কোথাও। কারণ, মনে প্রাণে ভালবাসি ওই অতীতের স্বর্গ। স্মৃতি রোমন্থনের ভয়েই হয়ত ডায়েরিটার অস্তিত্ব খুঁজি না আমি আজ।

মাটির হাঁড়ির চড়ুইভাতির কথাটাই তো মনে পড়ল আজ এই পার্থিব ভোরে। পুকুরে কলাগাছের ভেলায় ভেসে বেড়ানোর কথাও মনে পড়ল হঠাৎ। ওই প্রাচীনে তো বারণী স্নানের মেলা থেকেই বাবা কিনে দিয়েছিল পয়সা রাখার ছোট জালের ঝুলিটা। পয়সাগুলো ওই ঝুলিতে রেখে একটা সুতো দিয়ে কোমরে বেঁধে রাখতাম ওই ঝুলিটা। তখন তো ৫ পয়সা ১০ পয়সা দিয়ে কিছু কেনা যেত গ্রামের হাটের দোকানগুলো থেকে।

এ কোথায় অবতীর্ণ আমি আজ? আমি তো খুশী নই এই বর্তমানে। আমি তো জানি, প্রতিটি প্রাণই যে নিষ্পাপ। পৃথিবীতে কেও কোনদিন হয়ত জানবেও না ওই হারানো স্বর্গের কথা।