নির্দোষ সময়।


মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিলাম নদীর ওই বাঁক এ। গোধূলির পড়ন্ত আলোয় পালতোলা নৌকার সারিগুলো হারিয়ে যাচ্ছিলো দূরান্তের চেনা কোন দিগন্তে।


তখনও বসে আমি। সাঁঝের তীক্ষ্ণ একফালি চাঁদের আলোয় ঝলমলে স্বর্গে প্রকৃতি সেজেছিল অপরূপ রূপে। জলের ঢেউ এ ওই আলো নীরবে বলেছিল, এটা ছিল স্বর্গের এক বিন্দু আশীর্বাদ মাত্র। 

রিপুর কশাঘাতে জর্জরিত হয়নি তখনও ওই প্রাচীন পৃথিবী।


ধীর লয়ে সাঁঝের ছায়া আলোয় তখনও ভেসে যাচ্ছিল পালতোলা নৌকাগুলো। দাঁড়ের ঢেউ এ জলের কিনারা ছুঁয়ে যাচ্ছিলো অবর্ণনীয় সৌন্দর্যে পূর্ণ এক অপার্থিব স্বর্গীয় অনুভূতি।


মাঝিদের কণ্ঠে তখনও ওই প্রাচীন স্বর্গের সুর। কিন্তু, জলের তরঙ্গে বিষাদের ধ্বনি কেন? হঠাৎ যান্ত্রিক শব্দে কেটে গেলো ওই স্বর্গীয় আবেশ। যন্ত্রচালিত ওই নৌকাটাই তো বিকট শব্দে পালতোলা নৌকার ছন্দগুলো বিদীর্ণ করে দিল। এটাই ছিল প্রকৃতির সুরে বিভোর চিরসুখী ওই প্রাচীন সময়।

ওই বিভোর পৃথিবী তো আমার অচেনা পৃথিবী নয়। নীরবে জেনেছিলাম দ্রুতই হারিয়ে যাবে স্বর্গ। স্বর্গে তখন যন্ত্রের প্রবেশ হচ্ছিল দ্রুতই। কিন্তু, যন্ত্রের আশীর্বাদে সৃষ্ট এই বর্তমান পৃথিবীতে চির অসুখী এই প্রাণহীন বর্তমান।