জলের দর্পণ।


সর্পিল ছন্দে বয়ে যাচ্ছিলো ঐ পাহাড়ি স্রোতস্বিনী। নদীর দু’কূলেই ছিল ছবিতে আঁকা সবুজ গ্রামগুলো।


 

এখন মনে পড়লো, প্রকৃতি মায়ের তুলির আঁচড়ে গড়া ছিল ঐ কাশবনটা। ঐ প্রাচীন গ্রাম থেকেই ফিরছিলাম বর্তমানের বর্তমানে। অতীত থেকে বর্তমানে আসার পথে দেখেছিলাম মৌচাকটা ঐ মহীরুহের কোথাও। বিমোহিত দৃষ্টিতে ভালবেসেছিলাম ঐ মৌমাছিদের। এই বর্তমান সভ্যতা তো আমাদের স্বপ্নের সভ্যতা নয়। এই সভ্যতায় বৈদ্যুতিক পত্রালাপে মগ্ন আমি। মাঝে মাঝে নীরব অশ্রুতে দেখি রাস্তায় ডাকঘরের অবহেলিত ডাক বাক্সগুলোর করুণ বিলাপ। একসময় তো পাঠশালার পুরনো খাতায় ছিল অজস্র ডাক টিকেটের সংগ্রহ। অতীতের পুকুরে ছিল খেজুর গাছের ঘাট।


প্রাচীন ঐ জলের দর্পণে এখন আর দেখি না নিজেকে এই নিষ্প্রাণ আধুনিকে। বিলুপ্ত দিনের পড়ন্ত বিকেলে প্রকৃতির গায়ে ছিল ঐ আদিম বুনো ঘ্রাণ।


 

এ যে সেই ঘ্রাণ, যে ঘ্রাণের অভাবে মরে যাচ্ছে এই অপ্রয়োজনীয় বর্তমান। তারপরও পাষাণ হৃদয় আমি, কোন ভাবেই ফিরবো না প্রকৃতি মায়ের গ্রামীণ আঁচলে। আশ্চর্য চোখে দেখি নিজের এই স্বার্থপর অবয়ব।

অনেক ব্যর্থ শ্রমে গড়া এই মৃত সময়। তাই মূর্খ জ্ঞানে ভেবেছি অতীতে ফিরে যাওয়া আরও দুর্গম হবে এই শহুরে আগ্রাসনে, আর এটাই হবে আশীর্বাদ।

আমি তো নিজেই সুখী নই এই মৃত সময়ে। কিন্তু, আরও স্পষ্টভাবে বুঝেছি, অতীতেই ছিল এই সুখ। তাহলে কেন ফিরবো না আমি ঐ প্রাচীনে? ফিরবো না কারণ ঐ গ্রামীণ অতীতে ফিরে যাওয়া আমার এই আধুনিক বস্ত্রে বেমানান। আরও সঠিকভাবে জেনেছি, প্রাচীনের প্রকৃত সুখের চেয়ে এই আধুনিক বস্ত্রের অসুখী জীবনেই সন্তুষ্ট আমি। অথচ, এক বিন্দু সুখের জন্য নিরলস পরিশ্রম করি আমি এই বর্তমানে। আসলে, আরও অসুখী হই কারণ এখনো ফিরি না আমি ঐ প্রাচীনে।