ক্লান্ত এই পৃথিবীতে।


বারান্দায় বসেই শুনছিলাম ওরা বলাবলি করছিল, বাজার থেকে আসার পথে ওরা কৈ মাছগুলো নাকি ধরেছিল।


এই ঘোর বর্ষায় আমাদের বাড়ির পুরনো ইটের রাস্তাটা তো প্রায় ডুবেই গেছে। ওখানেই নাকি কৈ মাছগুলো রাস্তা পার হচ্ছিল। ওরা নাকি আবার যাবে মাছ ধরতে একটু পরেই। আমিও গোঁ ধরেছি ওদের সাথে যাব বলে।

বাইরে খুব জল হচ্ছিল তখন। কিন্তু, এখন এই নিশি রাতে কেরোসিনের ওই হারিকেনের আলোয় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যেন স্ফটিকস্বচ্ছ।

জানি না কয়টা বাজে এখন। আসলে এখানে ঘড়ি খুব অপ্রয়োজনীয় কিছু। ভোরের আলো ফোঁটার আগেই হঠাৎ দেখি ওই বড় কচ্ছপটাও ধীর গতিতে রাস্তা পার হচ্ছিল। এই প্রথম কচ্ছপ দেখেছি আমি জলের বাইরে। ধীরে ধীরে ওটা আবার জলের অতলে হারিয়ে গেল।

বাঁশের ওই ঝুড়িটাতে কৈ মাছগুলো রেখেছি সবাই। ওরা বলছিল আমাকে নাকি সবচেয়ে বড় কৈ মাছ দুটো দেবে।


এখনও দাঁড়িয়ে আছি ওই রাস্তাতেই কিন্তু, ঘড়ির প্রয়োজনে বর্ষা এখন বিরল এখানে। আশ্চর্য! হঠাৎ মনে পড়ল এটা তো আশির দশকের কোথাও নয় এই নতুন পৃথিবীতে।


কিন্তু, আমি নিশ্চিত, ঘোর বর্ষার ঠিক এই সময়েই কৈ মাছ ধরেছিলাম আমরা। গোধূলির বিলুপ্তির সায়াহ্নে কালো মেঘ দেখে দাঁড়িয়ে আছি ওখানে পুরনো বৃষ্টি দেখবো বলে। পার্থিব সময়ে, ঘণ্টা পেরিয়ে গেল কবেই যেন। ধীরে ধীরে মেঘ কেটে গেল। তারাগুলোর নীচে ভেসে যাওয়া সাদা মেঘে তখন নিকটের শহরের আলোর প্রতিফলনে ভগ্ন-হৃদয়ে বুঝতে পারি, এখন এটা লৌহ-বাস্তব, এখানে প্রকৃতি মৃতপ্রায়।

এভাবেই স্বর্গের অতীত অজান্তেই মরে গেল। অজান্তেই, কারণ তখন আমরা প্রযুক্তির বিজয়ে প্রকৃতির মৃত্যু দেখেও না দেখার ভান করছিলাম। অথবা, এটা এমনও হতে পারে যে, আমি তখন ভাবছিলাম প্রযুক্তি হয়ত প্রাণরক্ষা করবে আমার।

কিন্তু, আমি কি এখনও ঠিক বুঝতে পারছি না, প্রযুক্তির চর্চা ও এটাতে আত্মনিয়োগ ও অন্ধবিশ্বাস স্থাপন প্রকৃতির চেয়ে মূল্যবান কিছু ছিল কিনা?