কেও নেই ওখানে।


মগডালে দাঁড়িয়ে তখন কাঁচা আমগুলো পাড়ছি।


ভোরে পুকুরে ডুব দিয়ে তুলে এনেছিলাম মৃত ঝিনুকের খোলটা। কালের সাক্ষী পুকুরের ক্ষয়ে যাওয়া পাথরের ঘাটে বসে ঝিনুকটা ঘষে ঘষে আমের খোসা ছাড়ানোর জন্য কিছু একটা তৈরি করছিলাম ওই মাঝ দুপুরে।

অনেকগুলো কাঁচা আম পেড়েছি আজ সহপাঠীদের সাথে। কেও এনেছে নুন, কেও এনেছে কাঁচা মরিচ, আমি এনেছি একটা বড় থালা আর অনেকগুলো শুকনো মরিচ। বড় এক থালাভর্তি কাঁচা আমের আচার দেখে তর সইছিল না কারো। প্রাণভরে ওই আচার খেলাম সবাই পুকুরের ওপারের ওই বটগাছটার নিচে। শুনেছি এই গাছেই নাকি নিশিরাতে পেত্নীদের দেখেছিল অতীতের কেও কেও।


অন্য কোন দিনের বিকেল এটা।


তখন তো আকাশ রঙিন থাকত ঘুড়ির রঙে। হারিয়েছিলাম ঘুড়ি কাটাকাটির মগ্নতায়। এটা ছিল অতীতের আকাশ যেখানে বিহঙ্গরা ডানা মেলে ঘরে ফিরত নির্ভয়ে।

অনেকগুলো বর্ষা পেরিয়ে গেল।

এখন আর ষড়ঋতুরা নেই এই গ্রীষ্মের পৃথিবীতে। শীত, বর্ষাও হারিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। শুধু চির গ্রীষ্মের দিকে ধাবিত এই পৃথিবীতে এখন প্রকৃতি ধ্বংসে মগ্ন এই বর্তমান। বৃক্ষের বিলুপ্তির সাথেই তো ঋতুগুলো বিলুপ্ত হল।

এখনো মাঝে মাঝে একা হেঁটে বেড়াই ওই পাহাড়ি স্রোতে। গহীন ওই অরণ্যে খুঁজি শৈশবের ওই প্রাচীন ছায়া। কাওকেও যে দেখছি না ওখানে, বুকভরা এক একাকীত্ব নিয়ে ঘরে ফিরি আমি। ওই অতীতের শৈশব যে চিরতরে হারিয়ে গেল।