কিন্তু বা অথবা?


সুরের মূর্ছনায় মুখরিত ওই প্রাচীন পৃথিবীতে ভোর হতো বিহঙ্গের কলতানে শিশিরসিক্ত বৃক্ষরাজির বনে কোথাও। অনাবিল বিরল সবুজের ওই স্বর্গের কুয়াশার চাদরে সূর্যের লুকোচুরিতেই দিনগুলো যেন বিকেলে সমাপ্ত হতো।


 

তখন তো সবাই বসে আছি ওই আগুন ঘিরে। হাড়-কাঁপানো নিষ্পাপ রাতগুলোতে আগুনের উত্তাপ যেন স্বর্গের উপহার।

শুধু আগুনের দিকে তাকিয়েই চায়ের কাপে সঙ্গীতের মূর্ছনায় কেটে যেত স্বর্গের সময়গুলো। ওখানে ছিল এক অজানা অপার্থিব প্রশান্তির আমেজ। এতো সতেজতা যেন প্রকৃতির প্রাণপ্রিয় ভালবাসারই মাতৃক্রোড়।

হঠাৎ বা দ্রুতই স্বর্গে এলো এক প্লাবন। কেন যেন সবকিছুতেই হঠাৎ শুরু হল এক অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা। আগুনের শিখার সামনে চায়ের কাপের সময়গুলো অনুপস্থিত ওই প্লাবনের স্রোতে। চেনা সুরগুলো এখন ইতিহাসে কোথাও, কিছু প্রাচীন হৃদয়েই লুকিয়ে আছে ওই প্রাচীন সঙ্গীতের প্রাণ। কিন্তু, এই প্লাবনে সেই ইতিহাসও মুছে যাবে হয়ত। তেমন প্রাণখোলা নিষ্পাপ হাসিমুখ দেখি না আর কোথাও ওই প্লাবনে বিধ্বস্ত এই সময়ে।


প্লাবনে গা ভাসিয়েই করেছি মহাভুল। এখন তো সময় অনেক গড়িয়ে গেছে, কিন্তু, প্লাবন তো থামেনি। এটা ছিল প্রযুক্তির প্লাবন, যেখানে কৃত্রিমতার ছোঁয়া সেখানেই প্রকৃতির অনুপস্থিতি দৃশ্যমান।


 

এখনো আমি ভাসছি ওই প্লাবনের উত্তপ্ত স্রোতে, কিন্তু, এখানে আঁকড়ে ধরার মতো খড়কুটোটুকুই নেই কোথাও আজ। সাজানো ওই প্রকৃতির স্বর্গ হারিয়ে গেছে বেশ কিছু বছর আগেই। প্লাবনের স্রোতেই ভেসে ভেসে ভাবি ওই প্রাচীন স্বর্গের সময়গুলো। কিছু সময় হয়তোবা আছে এখনো ওই প্লাবনের স্রোত ভেঙ্গে তীরে দাঁড়াবার। এই তীরে দাঁড়ানোর অর্থ হল আমি ওই প্রাচীন স্বর্গে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু, কিভাবে খুঁজে পাবো স্বর্গের পুরনো ঠিকানাগুলো, ওখানে তো আজ বড় বড় শহরগুলো দাঁড়িয়ে আছে। শতবর্ষ পুরনো বৃক্ষগুলো নেই কোথাও। তাহলে?

এখন কি আমি প্লাবনের স্রোতে ভেসে ডুবে মরবো অথবা?