কখনও তাকিয়ে দেখিনি।


ভাবছি গ্রামের মাটির ঘরটা কেমন যেন বেমানান এই আধুনিক যুগে। আমি তো এখন শহরেই থাকি।


শহরে আছে আধুনিক পরিবেশ, গাড়ির চাকার উপস্থিতি দেখি এখানে, কংক্রিটের দালানগুলোতে তো বিলাসী জীবনের সব কিছুই আছে।

দামী পরিধানে আবৃত এক নিষ্প্রাণ অস্তিত্বে ওই মাটির ঘরে নিজেকে কেমন যেন ছোট মনে হয়। জোর করে ভুলে যেতে চাই এখানেই তো ছিল আমার অতীত বংশের শৈশব, আমার শৈশবের ও কিছু সময় তো এখানেই কেটেছে।

এখন সময় অতীতের নয়, এটাই সেই যান্ত্রিক সময় যেটা বহু কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত। কারণ এই আধুনিক সভ্যতা সৃষ্টি করার জন্য আবিষ্কার করি ওই যন্ত্রগুলো। আমি বিশ্বাস করি, “একমাত্র যন্ত্রই দিতে পারে বিলাসী জীবনের সমস্ত উপকরণগুলো।”


কিন্তু, গ্রামে আমার একমাত্র আশ্রয় ওই পৈত্রিক মাটির ঘরটাই। এটাই তো সেই ঘর যে মাতৃস্নেহে আমায় আশ্রয় দিয়েছে সবসময়। কিন্তু, আমি তো অন্ধ।


আশ্চর্য! এই মাটির ঘরের প্রাচীন কাঠের জানালার পুরনো লোহার রডগুলোও তো ক্ষয়ে গেলো দেখছি। এগুলো তো ভেঙ্গেই গেলো প্রায়। কখনও তাকিয়েও তো দেখিনি এই ঘরের কোথাও, কারণ সবসময় এই ঘরে বসেই মনমরা হয়ে থাকতাম, এটা মাটির ঘর বলে।

এটা তো আমিই, যে ক্ষয়ে যাওয়া জানালার ওই রডগুলো ধরেই দেখত বর্ষার জলের ধারা। শহরের সীমাহীন ক্লান্তির মাঝে পালিয়ে গ্রামেই চলে যেতাম এক বিন্দু শান্তির আশায়। আমার কল্পনার চেয়ে বেশী প্রশান্তিই তো পেয়েছি সবসময় এই মাটির ঘরে। তারপরও সন্তুষ্ট নই আমি। কারণ, প্রযুক্তির আলোর নির্ভরতায় আজ আমি অন্ধ।

মনে প্রাণে স্বর্গের বিনিময়ে ভালবেসেছি এই আধুনিক সভ্যতা। এখানে আমার স্বার্থপর প্রয়োজনের কাছে প্রকৃতি মূল্যহীন। কেন আমি অভিযোগ করি, “দিন দিন পৃথিবী এতো গরম হচ্ছে, বা কোন খাবারেই সেই আগের স্বাদ নেই?”

আমি এই মাটির ঘরটাতে বসেই ভাবছি ভেঙ্গে ফেলব এই ঘরটা, এবং এখানে হবে একটা কংক্রিটের দালান। আধুনিক জীবনের অনেক যান্ত্রিক উপকরণই থাকবে এখানে।

আসলে গ্রামের মাটির ঘরের অকৃত্রিম শান্তি আমার এই আধুনিক জীবনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। কিন্তু, ওই মাটির ঘর যে প্রকৃতির আচ্ছাদনে গড়া অতীতের স্বর্গের নীরব আশীর্বাদ।