এটা যে শহর।


মফস্বল শহরের কোথাও গ্রামের বিলভর্তি ছিল শাপলা ফুল। ঘোর বর্ষায় জোঁকের ভয় অবজ্ঞা করে সারাদিন ছিপ নৌকা নিয়ে এই সরোবরেই ঘুরে বেড়িয়েছি।


নৌকায় ছিল একটা বড় কচু পাতার ছাতা মাত্র। পাশেই ছিল সহপাঠীদের কেও। আজও সারাদিন ঘুরে বেড়াবো এই সরোবরে।

বৃষ্টিস্নাত ওই শাপলা পাতাগুলোর উপর হেঁটে যাচ্ছিলো মা ডাহুক তাঁর বাচ্চাদের নিয়ে। সরোবরে পানকৌড়িদের ডুবসাঁতার দেখেই কেটে গেল জীবনের বেশ কিছু সবুজ সময়। পাখিদের এই অভয়ারণ্যে আমাদের এই ঘুরে বেড়ানো পাখিগুলো মেনেই নিয়েছিল, কারণ ওরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিল আমরা ওদেরই পরিবারের কেও।

এখন জীবনের কোথাও এসে আবিষ্কার করি, সেই প্রাচীন অতীত যে নেই কোথাও এই পৃথিবীতে। কেন নেই তা আমি জানি না। সবাই বলে ও শুনি, সময়ের সাথে যুগ পরিবর্তিত হয়, তাই নাকি ওই অতীতও হারিয়ে গেছে।


হঠাৎ ভাবলাম, যাবো আবার ওই সরোবরে, খুঁজে নেব ওই ছিপ নৌকাটা ওই অগুনতি নৌকার ভিড়ে।


আমি মনেপ্রাণে জানি এখানেই ছিল ওই সরোবর। কিন্তু, এ কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আমি? এটা যে শহর। অগুনতি দালানের ভিড়ে কোথায় পাবো ওই নৌকার ধ্বংসাবশেষ?

স্বর্গের সরোবর বেঁচে আছে এখন শুধু মনের গহীনে। নীরব অশ্রুতে জেনেছি, প্রযুক্তি স্বর্গের উপযুক্ত নয় আদৌ। পাখিদের পরিবারের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করে স্বাগত জানিয়েছি কৃত্রিমতাকে। প্রযুক্তিই যে ওই কৃত্রিমতা, তা উপলব্ধি করিনি বলেই তো হারিয়ে গেল ওই সরোবর।

সময়গুলো পেরিয়ে গেল কখন খেয়ালও করিনি। এখন কি করবো আমি?