এখানেই তো বসে ছিলাম।


বসে আছি আমি গ্রামের সেই পাহাড়ি স্রোতস্বিনীর পাশে এই গোধূলির স্বর্ণালী আভায়। এখানেই তো বসে ছিলাম আমি ৩০টি বছর আগে।


সবাই তো তখন কানামাছি খেলতে বাস্ত। তখন তো স্বর্গের কারিগরেরা ঘরে ফিরছিল কাঁধে লাঙ্গল নিয়ে।

বাড়ি ফেরার পথে ছিল সেই প্রাচীন মহীরুহ, এই তো সেই অতীতের বটবৃক্ষ। সবাই বলতো এই গাছে নাকি ছিল ভুত-পেত্নিদের বসবাস। গা ছমছমে মহা ভয়ে ভয়ে এই গাছের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতাম সেই ভর সন্ধ্যায়।

কিছুদিন আগে দেখি, আধুনিক পৃথিবীতে কেও ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিক্রি করছে সেই মহা প্রাচীন এক ক্যাসেট প্লেয়ার। এ যেন কেও স্বর্গের সাজানো বাগানের সুন্দর ফুলগুলো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে এই মৃতপ্রায় স্বর্গে। কারণ, এগুলো এখন অপ্রয়োজনীয় এই নির্মম পৃথিবীতে।


সেই প্রাচীন বটবৃক্ষ আজ আর নেই সেখানে। অনেক কিছুই তো নেই দেখছি। অথচ এগুলো ছিল নিখাদ ভালবাসায় গড়া প্রতিটি কিছু।


আমরা তো প্রতিজ্ঞা করেছি এগুলোর স্মৃতিচিহ্নও রাখবো না কোথাও। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই স্বর্গের পরশে বড় করা হবে অনুচিত গেঁয়ো কিছু। প্রয়োজনে আমি আমার সন্তানকে এই বটবৃক্ষের ছবি দেখাবো ইন্টারনেটে। আশ্চর্য! কার মহাবরে সৃষ্টি এই মহিষাসুর সদৃশ মন।

সময়ের সিঁড়ি বেয়ে চলে এসেছি আমি বর্তমানে। কিন্তু,ভুলিনি স্বর্ণালী শৈশব। তবে আমি যে বেঁচে থাকবো সেই প্রাচীন পৃথিবীতে। আমি তো গভীর প্রানে জেনেছি স্বর্গ তো অমর, শুধু আমরাই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি ধীরে ধীরে।

এটা হচ্ছে পাপের নীরব শাস্তি, কি পাপের শাস্তি এগুলো? আমি তো জানি সেই হারিয়ে যাওয়া বটবৃক্ষ ছিল মহা নিষ্পাপ এক প্রাণ।

আমরা যে ইচ্ছে করে খুন করছি নিষ্পাপ প্রাচীনত্বকে।


Leave a Reply