একটা প্রেমের গল্প।


ওই কুয়াশাঘেরা ভোরগুলোতেই তো হেঁটে বেড়িয়েছি শিশিরবিন্দুর স্পর্শে। কনকনে হিমেল ওই আবেশে জীবনের একটা অতীত সময় বসেই ছিলাম আমি নির্জন সবুজের মাঝেই।


জীবনের বছরগুলো কেটেই যাচ্ছিল সময়ের নিরবিচ্ছিন্ন প্রবাহে।

ধীরে ধীরে দিনের প্রথম সূর্যের আলো ফুটল ওই প্রবীণ অতীতে। এটাই ছিল সেই প্রাচীন সময় যেখানে সরলতা ছিল প্রকৃতির অলংকার। অতি সাধারণ ওই জীবনে চাওয়া পাওয়ার তেমন কিছুই তো ছিল না।

সবুজের কারিগর কৃষকের মমতায় গড়া ওই প্রাচীন গ্রামগুলো ছিল ছবির মত সাজানো। এই তো সেই প্রেম যে প্রেমে চির অন্ধ আমি। এই তো সেই প্রেম, যে প্রেম হারিয়ে পৃথিবী ধুঁকে ধুঁকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতি পলকেই।


এই ধ্বংসের মাঝে কোথাও দাঁড়িয়ে প্রতিদিনই তো ভাবি, একদিন হয়ত আবার ফিরে যাব ওই প্রাচীন গ্রামে যেখানে ছিল আমাদের প্রাণ।


কিন্তু, প্রতিনিয়তই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির মাতৃছায়া। নিজেও জানি না কোথায় যাচ্ছি আমি এই বিষাক্ত সময়ের স্রোতে।

ওই সামনে যে মরুসম প্রান্তরটা দেখছেন, ওটা হচ্ছে এই গ্রামের অতি পুরনো দিঘীটা, দিনভর সাঁতার কেটেছি শৈশবে এই দিঘীর জলে। এটা এতোটাই গভীর ছিল যে, কখনও ডুব সাঁতারে এই গভীরতার শেষ কেও দেখেনি। কিন্তু আশ্চর্য চোখে দেখি, উত্তপ্ত বায়ুস্রোতে চৌচির এক জলশূন্য বিরান ভূমি ওখানে। এই গ্রীষ্মেই অতল দিঘীটা মরে গেল।

এই ধ্বংস থামানোর সামান্য সময়ই হয়ত আছে। একমাত্র বৃক্ষই বাঁচাতে পারে এই পৃথিবী।