এই নতুন পৃথিবীতে।


প্রাচীনের পৃথিবীতে বৃষ্টিস্নাত ওই দিনগুলোতে পুরনো বাড়ির বারান্দায় বসে অলস দুপুরগুলোতে দেখতাম দুরের কোন এক বৃক্ষে কাকের সারিতে বসে আছে অন্য ভুবনের বিহঙ্গরা। অঝোর ঐ বৃষ্টিতে সময়গুলো যেন মহা অমূল্য স্বর্গীয় এক উপহার।


ধীরে ধীরে সন্ধ্যা যেন ঘনিয়ে এলো। এখানে তো বিজলী বাতির রোশনাই নেই কোথাও। কেরোসিনের নিষ্প্রভ আলোয় দেখছি তখন প্রকৃতি মায়ের চির-চেনা স্নেহময়ী মুখ। এ যেন মায়ের আঁচলের অভয়ারণ্যে শিশুর বেড়ে ওঠা। একটু আগেই আমার কাকা কাঠের ছাতায় পুরনো টর্চের আলোয় বাড়ি ফিরলেন। টর্চের তীব্র আলোয় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো স্ফটিকই যেন। কাকার ঐ ছাতা আর টর্চটা নিয়ে আমি এখন কৈ মাছ ধরবো বলে সহপাঠীদের সাথে এই নির্জন পৃথিবীতে কোথাও।


সময়ের স্রোতে ভেসে এই নতুন পৃথিবীতে এসে দেখি আমার চেনা স্বর্গটা হারিয়ে গেছে অনেক আগেই।


এতকাল তো স্রোতেই ভেসেছি, চারিদিকে দেখেছি শুধু পরিবর্তনের প্লাবন। কিন্তু, ভাবিনি কোথাও, এই পরিবর্তনের ছোঁয়া কি সৃষ্টি করবে বা কি আনবে অদুরের ঐ পৃথিবীতে যেখানে দাঁড়িয়ে আছি আমি আজ।

কিন্তু, শৈশবে আমি তো চেয়েছি ঐ বৃষ্টিস্নাত বর্ষার সময়গুলো অমর হবে দুরের পৃথিবীতে।

ধাতব এই যুগে প্রাচীন ঐ সময়ের বিনিময়ে প্রযুক্তির উন্নতিই আশা করি হয়ত। এই কারনেই হারিয়ে গেল প্রাচীন ঐ স্বর্গ। এটা শিখেছি, কৃত্রিমতায় স্বর্গের উপস্থিতি যে অনুপস্থিত।