আশ্রয় খুঁজছি আমি।


সারাজীবন সুখ খুঁজেছি আমি। কিন্তু, এখন এই পরিত্যক্ত পৃথিবীতে আমি একা দাঁড়িয়ে।


সুখের জন্য কিছুই করিনি আমি। কর্মফলে বিশ্বাস করিনি কখনো। কারণ ভেবেছি, যান্ত্রিক সভ্যতার উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রমে গড়ে তুলবো শুধু নিজের জন্যই এক আরামদায়ক পৃথিবী। কিন্তু, আবির্ভূত হয়েছি এই নির্মম বর্তমানে।

ভাবিনি কখনো, আরাম-আয়েশ আর শান্তির মধ্যে পার্থক্য কি হতে পারে।

প্রতিদিনই উত্তপ্ত হচ্ছে এই পৃথিবী। চারিদিকে দেখছি ধ্বংসের ছায়া। এখানে যে অগভীর খালটা দেখছেন এটা ছিল এক দশক আগের এক গভীর খরস্রোতা নদী। সবাই ভাবছে, এভাবে পৃথিবী একদিন মরুভূমি হবে হয়ত। কিন্তু, এই উত্তাপে গলে যাচ্ছে পৃথিবীতে সঞ্চিত বরফ। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এগুলো যে অপরিহার্য।


বরফ গলে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সমুদ্রে হারিয়ে যাচ্ছে দ্বীপগুলো।


কারণ, বরফগলা পানিতে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। একসময় হয়ত তলিয়ে যাবে ডাঙার শহরগুলো। আমাদের সৃষ্ট বর্তমান প্রযুক্তিগুলো পৃথিবীকে এই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। বরং, এটা দেখছি, এই প্রযুক্তির কারণেই আরও দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে এই প্রকৃতি।

আমাদের বাঁচার উপায় আছে মাত্র দুটো। হয়ত মরে গিয়ে বেঁচে যেতে পারি, অথবা বৃক্ষ রোপণ করে এবং একি সাথে বৃক্ষ ধ্বংস রোধ করে বেঁচে থেকেই অতীতের স্বর্গে ফিরে যেতে পারি এবং এখানেই সুখী হবো সবাই।

আমি এই মুহূর্তে জানি না উপায় দুটোর কোনটা বেছে নেব। কিন্তু, এটা জানি, ডুবে যাওয়া ওই ভবিষ্যতের পৃথিবীতে আমিই ডুবে মরবো প্রথমে। ডুবে মরবো কারণ আমি এই মুহূর্তেই বৃক্ষ ধ্বংস বন্ধ না করে নীরবে দেখছি ধ্বংসের আরও গভীর রূপ। আমার মূর্খতার তুলনা মেলা ভার।

এখনো ক্ষীণ সময় আছে সেই গ্রামীণ স্বর্গে ফিরে যাওয়ার। শুধু বৃক্ষ রোপণ করে ও বৃক্ষ ধ্বংস বন্ধ করেই আমরা আবার ফিরে যেতে পারি প্রাচীন সেই সুস্থ পৃথিবীতে। কিন্তু, এটা করার সময় আগামীকাল নয়, এটা করার সময় ঠিক এখনি।