আমার অন্ধত্বে আমি দেখছি।


অতীতের কেরোসিনের হারিকেনগুলো আজ দুষ্প্রাপ্য এই কঠোর পৃথিবীতে। সেই কুয়াশাছন্ন কনকনে শীতে গ্রামের হাটগুলো উজ্জ্বল ছিল ওই কেরোসিনের কুপি বাতিতে।


অবর্ণনীয় সুন্দর সেই হৃদয়স্পর্শী ভালবাসায় গড়া ওই প্রাচীন পৃথিবী। সব কিছুতেই ছিল এক পবিত্র প্রাণের আবেশ, ছিল অকৃত্রিম ভালবাসার উষ্ণ ছোঁয়া। এখনো মনে পড়ে, পুরনো টর্চের আলোতে শীতের রাতে গ্রামের পথ ধরে আমি আর বাবা তখন ঘরে ফিরছি।

কিসের আশায় গড়া এই বর্তমান পৃথিবী, যেখানে প্রাণের ছোঁয়া নেই কারো নির্মল হাসিতে। এরই মধ্যে হারিয়ে গেলো ভ্রাতৃত্ববোধ এই প্রাণহীন সময়ে। তারপরও আমি ভালবাসি এই প্রাণহীনতা। একবারও আমি চেষ্টা করিনা ফিরে যেতে সেই পুরনো অতীতে। আমি যে ইচ্ছে করেই সেই পুরনো অতীতের স্মৃতিগুলো এড়িয়ে চলি। আমার এই বিষাক্ত অস্তিত্বে আমি এখন চিরসন্তুষ্ট। আমার অন্ধত্বে আমি দেখছি অতীতের পৃথিবী ছিল নরকসম। কারণ, আমি আধুনিক এই বিষাক্ত প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত ছিলাম ওই আশীর্বাদপুষ্ট অতীতের স্বর্গে।


গ্রামের বৈদ্যুতিক আলোয় মুছে যাওয়া অন্ধকার গ্রীষ্মে আজ স্বর্গের জোনাকিরা মহাবিরল এক প্রাণ।


এখন তো আমি সেই কেরোসিনের হারিকেন দেখি ছবিতে। কিন্তু, জাদুঘরে ওই হারিকেনের উপস্থিতিতে হবে আমার সন্তুষ্টির পূর্ণতা। কারণ, আমি দেখতে চাই না সেই প্রাচীন কেরোসিনের হারিকেন সেই প্রাচীন পৃথিবীতে।

ভাবছি, অকৃত্রিম মাতৃ ভালবাসায় বড় করেছে আমায় এই নিষ্পাপ প্রকৃতি, কিন্তু আমার জন্মটাই যে বৃথা। কারণ, এই প্রকৃতির জন্য ভালো কিছুই করিনি আমি।


Leave a Reply