অস্তিত্বের অশ্রু…


ঠিক ওখানেই নীরবে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম প্রকৃতির বিলুপ্তির অনতিদুরের ভবিষ্যৎ। ধীরে ধীরে চোখের সামনেই হারিয়ে গেলো প্রেমের শিশির বিন্দুরা।


 

কিন্তু, ওরাও তো ছিল প্রকৃতির সন্তানদের কেও। আসলে, ওই শিশিরবিন্দুরা ছিল গ্রামীণ বৃক্ষরাজির সারি। আমার এই নিষ্প্রাণ সভ্যতায় কিভাবে বুঝবো আমি প্রকৃতির এই অমর প্রেম, কারণ আমি যে জানতে চাই না, বুঝতে চাই না, শুনতে চাই না, এমন কি দেখেও এড়িয়ে যাই… আমি তো বর্তমান সভ্যতার অপ্রচলিত অচল হাতিয়ারে সজ্জিত বিশ্বাসঘাতক হৃদয়। আর এই প্রযুক্তির মূর্খ হাতিয়ারের দর্পে অনুতপ্ত নই আমি, এবং হারিয়েছি মানবতা জ্ঞানটুকুও।


আমি তো উন্নত জীবনে বিশ্বাসী কিন্তু কখনো উন্নত জীবন কি তা জানতেও চাই নি আমি এবং এখনো জানি না।


 

আমার ধারনা, যেটাতে আমার ভালো লাগবে বা যা কিছু আমাকে একটু আরামে রাখবে ওগুলোর সরবরাহ, সংরক্ষণ, স্থাপন বা প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে উন্নত জীবন। কিন্তু, এগুলো কি কখনো প্রকৃতি ধ্বংসের কারণ হবে কিনা এটা জানা আমার জন্য নিষ্প্রয়োজন কিছু। আমি তো উপলব্ধি করি না, প্রযুক্তির রক্ষাকবচে প্রকৃতির অভাবে বিলুপ্ত হবো আমিও। তবে কেন আবিষ্কৃত হই আমি অস্তিত্বের কোথাও এক নীরব অশ্রুতে? জীবনের পাঠশালায় শিখেছি, কতটুকু অপ্রয়োজনীয় এই উন্নত জীবন গড়ার মূল্যহীন সমস্ত শ্রম, আরও নিশ্চিতভাবে জেনেছি প্রযুক্তি কতটা নিষ্প্রয়োজন ও প্রকৃতি বিধ্বংসী। শুধু, মুঠোফোনের আগ্রাসনেই সবাই কেমন যেন একাকীত্বে নিষ্প্রাণ সর্বত্র, এমনকি সবার মাঝে থেকেও সবাই একা। এটা যে প্রকৃতির অভিশাপের দৃশ্যমান রূপ।