অভিশাপের উপহার।


কেন ভুলে গিয়েছিলাম, “আদিম স্বর্গে প্রকৃতি ছিল ফুলের গহনায় অলংকৃত”।


প্রযুক্তির যুদ্ধে বিধ্বস্ত এই পৃথিবীতে শান্তির এক নীড়ের খোঁজে আমি। শ্মশান-সদৃশ এই বিষাক্ত ভুমিতে যন্ত্রদানবের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে সবার। কৃত্রিম আশীর্বাদের অভিশাপে সর্বত্র দৃশ্যমান স্বার্থপর এক গ্রন্থাগার। কি নেই এখানে, এখানে আমি আঙ্গুলের স্পর্শেই খুঁজে পাই কৃত্রিম জ্ঞান। চা’ এর দোকানে বসেই তো ছিলাম অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ত সময়ের নিষ্প্রাণ কোনও ক্ষণে। অশুভ মুঠোফোনে মগ্ন কেও আমি তখন। আমার এই স্বার্থপর একাকীত্বের সাহচর্যে একা নই আমি।


চারিদিকে বিভোর সবাই মুঠোফোনের সম্মোহনে। এ যেন এক ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সর্বত্র।


আদিমের বিলুপ্ত গ্রন্থাগারগুলো মুঠোফোনের জাদুঘরেই করুণার দ্বারে আশ্রিত এক শবের সারি মাত্র।

কঠোরভাবে ভুলতে চাই, “অগ্রজ ঐ কাগুজে পুস্তকের আশীর্বাদেই প্রৌঢ় এই বর্তমান”।

কিন্তু, দামী বস্ত্রে শিক্ষিত এই বর্তমানে প্রকৃতি মাতা আজ বেমানান। খুব অশিক্ষিত আর গেঁয়ো মনে হয় নিজেকে গ্রামের পুরনো ঐ তালগাছের ছায়ার স্বর্গীয় পবিত্রতায়। এভাবে, প্রতিনিয়ত প্রকৃতির অভিশাপ সংগ্রহে নিরলস পরিশ্রম করছি আমি। ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে স্বর্গসম এই পৃথিবী। প্রকৃতির নীরব অশ্রুর অভিশাপের ফল এটা। প্রকৃতির অভিশাপের উপহার ছিল এই মুঠোফোন।