অনতিদুরের অতীতে।


প্রখর গ্রীষ্মের ক্ষীণ উষ্ণতায় গ্রামের পাহাড়ি মেঠোপথগুলো ছিল ধুলোয় ধুসরিত ভর দুপুরে। আমরা তো হাঁটছিলাম সেই পাহাড়ি স্রোতস্বিনীর ধারা বেয়ে অনতিদুরের অতীতে। এই তো সেই ক্লান্তিহীন পড়ন্ত বিকেলের স্বর্ণালি আভায় নির্জন পৃথিবী।


একঝাঁক ঘন সবুজ টিয়া পাখির দল এই মাত্র উড়ে গেলো নিবিড় জঙ্গলের বাসগৃহে।

সেই পুরনো পৃথিবীতে তো ঘুম ভাঙত ডাহুকের একটানা সুরে। স্কুল শেষে ছিল অফুরন্ত সময় নিবিড় প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়াবার। সব কিছুই ছিল প্রকৃতির অপরূপ স্পর্শে গড়া। আমার ছিল অফুরন্ত সময় আপনার সাথে প্রাণ খুলে কথা বলার। আমার মধ্যে ছিল বর্তমানের অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততার চির অনুপস্থিতি। আর এই অনুপস্থিতিটার অভাব যে এখন এই পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান কিছুর একটা।

এখনো মাঝে মাঝে এই ধাতব শহর ছেড়ে ছুটে যাই হারানো গ্রামে। কিন্তু, গিয়ে দেখি সেখানে হারিয়ে গেছে চির চেনা হারানো গ্রাম। এ যেন এক শহর ছেড়ে অন্য কোন নতুন সৃষ্ট শহরে প্রবেশ।


আসলে, আমি মহাব্যস্ত কেও এই বর্বর বর্তমানে। আমার প্রশ্নগুলো ছিল, “আমি আসলে কি ব্যস্ত, অথবা কিসে ব্যস্ত আমি এই নির্দয় বর্তমানে, আমার এই ব্যস্ততাই কি বিলুপ্ত করেছে সেই হারানো পৃথিবী?”


কেন যেন এই অতিপ্রয়োজনীয় উত্তরগুলো জানা আমার জন্য খুবই অপ্রয়োজনীয়। আর এই অপ্রয়োজনীয়তাই ধ্বংস করেছে হারানো প্রকৃতি।


Leave a Reply