অতীতের কোথাও যেন…


আমার কি এখনো মনে আছে?


শীতের ভোরে দেখতাম ওরা খেজুরের রসের হাঁড়ি কাঁধে হেঁটে যাচ্ছিল দিগন্তের পানে।

দিনের কোথাও কানামাছি ও লুকোচুরি না খেললেই নয়। বিকেলের পড়ন্ত রোদের আগেই আমাদের যেতে হবে তেঁতুল গাছ তলায়। বাঁশের ছিপটা দিয়েই তেঁতুল পাড়ব সবাই। পুকুরে সাঁতরে বেড়ানোটা দিনের পূর্ণতার প্রথম শর্ত ছিল যেন। অফুরন্ত ক্লান্তিহীন সময়ে প্রাণখোলা নিষ্পাপ হাসিতে মুগ্ধ ছিল প্রাচীন পৃথিবী।


প্রতিদিনই তো দেখতাম, পালতোলা নৌকায় আগামী দিনের সুরে হারিয়ে যাচ্ছিল স্বর্ণালী অতীত। নদীটা আজ আর নেই।


এগুলো আমার মনে নেই এখন, হয়ত আছে, কিন্তু, স্বার্থপর অবয়বে ভুলে যাই, অতীতের ওই নিষ্পাপ আশীর্বাদেই এসেছি আমি এখানে। আর এই স্বার্থপরতাই আমার অভিশপ্ত হওয়ার একমাত্র কারণ। এভাবেই তো অভিশপ্ত হল বর্তমান। কোথায় অবতীর্ণ হবে এই বর্তমানের ভবিষ্যৎ?

যদি না ফিরি এখনই ওই উদ্ভিদের প্রাচীনে, বুক ফাটা তৃষ্ণায় মরূদ্যানে এক বিন্দু জলের খোঁজে মৃতপ্রায় হবো আমি।

হয়ত ফিরব প্রাচীনের স্বর্গে এখনি, অথবা বর্তমানের মোহ আঁকড়ে নিষ্প্রাণ মরূদ্যানে অবতীর্ণ হবো আমি। এভাবেই গড়ে উঠবে বর্তমানের ভবিষ্যৎ।